25-10-2016 10:36:44 AM

শেকলে বেঁধে চিকিৎসা দেয়া এক হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসা চলছেই !

newsImg

নেই কোন ডিগ্রীধারী সনদ। তবুও ত্রিশ বছর যাবত নিজ বাড়িতে রীতি মতো মানসিক রোগীর চিকিৎসা করে আসছে হাতুরে ডাক্তার বিমল কবিরাজ। মাটির ঘরে চৌকি ও বিছানা পেতে সেখানে শেকল দিয়ে হাত পা বেঁধে সকাল বিকেল পানিতে চুবিয়ে শারীরিক টর্চারের মাধ্যমে মানসিক রোগীকে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামে এমন কবিরাজের সন্ধান পাওয়া গেছে।সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীওদের সাথে কথা বলে জা যায়, বিমল কবিরাজের পূর্ব পূরুষরাও কবিরাজী পেশায় যুক্ত ছিলেন। পূর্ব পূরুষের পেশা ধরে রাখতে নিজেও ত্রিশ বছর যাবত তার নিজ বাড়িতে মানসিক রোগীর চিকিৎসা করে আসছেন। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘরের মেজেতে বিছানা পেতে সেখানে শিকল দিয়ে আটকে রেখে দিনের পর দিন করা হচ্ছে শারীরিক টর্চার। শুধু তাই নয়, পাগলের মাথা ঠান্ডা রাখতে সকাল বিকেল দিনে দুইবার খালের পানিতে চুবানোর মাধ্যমে চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অসহায় মানুষগুলোর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা।স্থানীয়রা জানান, বিমল কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিয়ে কেউ ভালো হয়েছে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি চিকিৎসার নামে এখানে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার চিকিৎসার ধরনও ভিন্ন। রোগীদের খুবই টর্চার করছেন। রোগীদের প্রতিদিন সেকলে বেঁধে রাখেন। সকালে ও বিকেলে পানিতে চুবিয়ে থাকেন। এরপর উঠিয়ে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়ান। এভাবেই চলে তার চিকিৎসা সেবা।তবেএমন অভিযোগ অস্বীকার করে সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রশ্নের জবাবে  বিমল কবিরাজ জানান, তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রায় ১০ হাজার পাগলের চিকিৎসা করেছেন। তাদের অধিকাংশই ভালো হয়েছে। তন্ত্র মন্ত্রের পাশাপাশি কবিরাজি চিকিসার মাধ্যমেই পাগলের চিকিৎসার মতো এ ধরনের জটিল রোগের চিকিসার কথা জানান বিমল কবিরাজ ও তার ছেলে। তার পূর্ব পূরুষরা এই পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে এই পেশা শিখেছেন। তবে তার কোন কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এতোদিন কেউ কাগজপত্র চায়নি। যদি প্রয়োজন হয় এখন করবো।বিমল কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগমের দুই মেয়েকে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে চিকিৎসা নিতে দেখা গেলে রহিমা বেগম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তার দুই মেয়ে পাগল হওয়ায় ৪০ হাজার টাকা চুক্তিতে এখানে চিকিৎসা নিতে এনেছেন। গত ১ মাস পর্যন্ত এখানে রাখলেও কোন উন্নতি দেখছেন না তিনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সন্তোষ কুমার সরকার  সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে জানানো হবে। যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামছুল আরিফ সময়ের কণ্ঠস্বরকে  জানান, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রোগীর উপর এ ধরণের টর্চার ও নির্যানের মাধ্যমে কোন চিকিৎসা দেয়াটা সম্পুর্ণ নিয়ম বহির্ভূত কাজ। লালমোহনে এমন চিকিৎসার বিষয়টি আগে জানা ছিল না। শীঘ্রই এ ধরণের অপচিকিৎসা বন্ধ করা হবে